বরিশাল মহানগরীতে খেলার ছলে ডেকে নিয়ে ৬ বছর বয়সী এক কওমি মাদরাসা ছাত্রকে অটোরিকশার গ্যারেজে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এই অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মারুফ হোসেন (২৫) নামের এক যুবককে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। গত মঙ্গলবার (২৭ মে) নগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাকাঠী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে।
গ্রেপ্তারকৃত মারুফ হোসেন ভোলা জেলার তজুমদ্দিন উপজেলার মূল বাসিন্দা হলেও সে দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল নগরীর কাশিপুর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছিল। অন্যদিকে, ঘটনার শিকার ৬ বছরের শিশুটি স্থানীয় একটি কওমি মাদরাসার নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী। এই অমানবিক ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে এয়ারপোর্ট থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে শিশুটি তার চাচাতো বোনসহ অন্য সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে বাড়ির পাশে খেলাধুলা করতে বের হয়েছিল। এ সময় ওত পেতে থাকা অভিযুক্ত মারুফ হোসেন শিশুটিকে একা পেয়ে কৌশলে ডেকে ইছাকাঠী এলাকার একটি নির্জন ইজি বাইক বা অটোরিকশার গ্যারেজের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে গ্যারেজের দরজা আটকে দিয়ে প্রথমে শিশুটিকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং পরবর্তীতে তার ওপর শারীরিক নির্যাতনসহ জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়।
পৈশাচিক এই নির্যাতনের একপর্যায়ে অবুঝ শিশুটি যন্ত্রণায় ও আতঙ্কে চিৎকার শুরু করলে তা আশপাশের পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে। সন্দেহবশত লোকজন দ্রুত গ্যারেজের দিকে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত মারুফ দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে তাকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয়। খবর পেয়ে এয়ারপোর্ট থানা-পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মারুফকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, “ইছাকাঠী এলাকায় এক শিশুকে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মারুফ হোসেন নামের এক যুবককে স্থানীয় জনতা আটক করে আমাদের দেয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এবং স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, মারুফ একজন স্বভাবগত অপরাধী এবং এর আগেও সে বিভিন্ন স্থানে এই ধরনের বিকৃত ও লম্পট প্রকৃতির ঘটনা ঘটিয়েছে।”
ওসি আরও জানান, ভুক্তভোগী শিশুর মায়ের দায়ের করা মামলায় মারুফকে এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ দুপুরে বরিশাল আদালতে হাজির করা হয়। বিজ্ঞ আদালত আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে সরাসরি জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শিশুর ওপর এমন নৃশংস ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিতে পুলিশ দ্রুততম সময়ে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।